সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে যা বললেন নাহিদ ইসলাম
গণ-অভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো দোসর জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ভাষণ দিতে শুরু করলে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান। এ সময় জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী জোটের এমপিরা প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার পর নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে ফ্যাসিস্ট সরকার পতিত হয়েছে, সেই সরকারের কোনো দোসর জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার নৈতিক অধিকার রাখে না। তিনি দাবি করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি সম্মান দেখাতে হলে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে একই সময় ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের এমপিরাও সংসদে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ দেখান। এতে সংসদের ভেতরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম হস্তক্ষেপ করেন এবং সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে অধিবেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানান। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে সংসদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
উল্লেখ্য, জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলো আগে থেকেই সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, এ বিষয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী কোনো ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে বিরোধী দল বা কোনো সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলে সেটিকে ‘ওয়াকআউট’ বলা হয়।
এদিন সকালে জাতীয় সংসদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল শপথ গ্রহণ করেন। জাতীয় সংসদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
প্রথমে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ শপথ নেন এবং পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে যায়।
