প্রকাশ্য জনসভায় নির্বাচনী প্রচারণার খরচের তথ্য দিলেন জামায়াত আমির
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নির্বাচনি প্রচারণা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে মোট ৩২ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৮ টাকা ব্যয় করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন–এ জমা দেওয়া নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী প্রতিটি প্রার্থীকে নির্বাচনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের নির্বাচনি ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব জমা দিতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেছেন। জমা দেওয়া ব্যয় বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নির্বাচনি প্রচারণা ও সংগঠন পরিচালনার বিভিন্ন খাতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনি প্রচারণার খাতেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে, যার পরিমাণ ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫০ টাকা।
প্রচারণার আওতায় পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট, মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রার্থী ও কর্মীদের যাতায়াত এবং প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত যানবাহনের জন্য পরিবহন খাতে ব্যয় হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৬ টাকা। জনসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, যা নির্বাচনি প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নির্বাচনি ক্যাম্প পরিচালনা, অফিস ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খরচ হয়েছে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬৪২ টাকা। অন্যদিকে নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত এজেন্ট, সহকারী কর্মী ও অন্যান্য স্টাফদের পারিশ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৯০ টাকা। আবাসন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যয় হয়েছে আরও ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
এছাড়া বর্তমান সময়ের নির্বাচনি প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় অনলাইন প্রচারণার জন্যও আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়। সে হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা পরিচালনার জন্য ব্যয় হয়েছে ৭১ হাজার ৬০ টাকা। সব মিলিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ৩২ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৮ টাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন শফিকুর রহমান। এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন।
দেশের প্রচলিত নির্বাচনি আইন অনুযায়ী একজন প্রার্থী প্রতি ভোটারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত নির্বাচনি ব্যয় করতে পারেন। সেই হিসাবে ঢাকা-১৫ আসনে একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা নির্ধারিত ছিল ৩৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮০ টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী দেখা যায়, শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রেখেছেন এবং আইন অনুযায়ী অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করেননি। ফলে নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুসরণ করেই তিনি তার নির্বাচনি ব্যয় সম্পন্ন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
