যুদ্ধ বন্ধে যে নতুন শর্ত দিল ইরান

 


চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে তারা এখন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরান এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দাবি করছে।

শুধু তাই নয়, এই নৌপথ ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের পরিকল্পনাও করছে তেহরান। ইরানের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশটি বছরে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে করে তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের সুবিধা পাবে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করা যে কতটা সহজ, তা ইরান এখন ভালোভাবে বুঝে গেছে। তাই তারা এটিকে আয়ের নতুন উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

তবে ইরানের এই শর্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে অবৈধ ও বিপজ্জনক উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন, এমন কিছু ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রণালিকে একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তারা সেই কৌশল আরও জোরালোভাবে প্রয়োগ করছে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দাবি আদায়ে আরও চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে তেহরান।

সামগ্রিকভাবে, ইরানের এই নতুন শর্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদি এই দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন