আফগানিস্তানের পালটা হামলায় ১৪ পাকিস্তানি সেনা নিহত: সীমান্তে চরম উত্তেজনা।
পাকিস্তানের হামলার জবাবে পাল্টা সামরিক অভিযানে সীমান্তবর্তী একটি পাকিস্তানি সামরিক চৌকি দখল করেছে আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের কুনার প্রদেশ এবং নানগারহার প্রদেশ–সংলগ্ন তথাকথিত ডুরান্ড লাইন সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষের সময় এ ঘটনা ঘটে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, পাল্টা হামলায় পাকিস্তানের অন্তত ১৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম Tolo News।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে ‘রাদ-উল-জুলুম’ নামের একটি সামরিক অভিযানের সময় পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ওই স্থাপনাটির নাম ‘হামজা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আফগান সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত পাকিস্তানি সামরিক চৌকিতে আঘাত হানা হয় এবং পরে সেটি দখলে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেন, আফগান প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাল্টা হামলা প্রমাণ করেছে যে দেশটির বাহিনী প্রয়োজনে পাকিস্তানের ভেতরেও আঘাত হানতে সক্ষম। তার মতে, এই অভিযান দেখিয়ে দিয়েছে যে আফগান বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এবং প্রয়োজনে বিমান বা ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতাও রাখে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। তারা জানান, আফগান হামলার পর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীও তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ ও রকেট হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পাকতিকা ও কুনার প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান জিয়াউর রহমান স্পিংঘার বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তথাকথিত ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় ২৭১টির বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলায় অন্তত তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক বাসিন্দা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ইসলামিক এমিরেটের পক্ষ থেকে চালানো ড্রোন হামলার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, এসব ড্রোন হামলায় কুয়েটা, কোহাট এবং রাওয়ালপিণ্ডি শহরের কিছু স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধ রয়েছে। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কতটা বিস্তৃত হবে বা দুই পক্ষ কূটনৈতিকভাবে সমাধানের পথে এগোবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
.jpg)