একযোগে ইরাক ও কুয়েতের ৩টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলা
Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইরাক ও কুয়েত-এ অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের এই এলিট বাহিনী জানায়, চলমান সামরিক অভিযানের ৫২তম ধাপে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েল-সমর্থিত অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও ইরানি বাহিনী ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিলে অবস্থিত হারির সামরিক ঘাঁটি এই হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিল। পাশাপাশি কুয়েতে অবস্থিত আলি আল সালেম ঘাঁটি এবং আরিফজান সামরিক ঘাঁটির দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই ঘাঁটিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে হামলার ফলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না— সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করছে।
এদিকে আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-কে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ইরানের এই সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি জীবিত আছেন নাকি ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন— সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নেতানিয়াহু হয়তো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন— এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আইআরজিসি জানায়, তিনি যদি জীবিত থাকেন এবং তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়, তাহলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য এবং হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েল-এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক কর্মকাণ্ড বাড়তে দেখা যাচ্ছে, যার প্রভাব পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর পড়ছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, যদি এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে।
