শেষ পর্যন্ত মুখ খুললেন সাকিব: কেন দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি?
বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান–এর দেশে ফেরা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার দেশে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানালেও বাস্তবে এখনো দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। ফলে কবে তিনি দেশে ফিরবেন—এই প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে ক্রিকেটাঙ্গন ও ভক্তদের মধ্যে।
অবশেষে এ বিষয়ে নিজেই মুখ খুলেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ দলের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তিনি জানান, মূলত কিছু আইনি জটিলতার কারণেই আপাতত দেশের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে সাকিব বলেন, তিনি দেশে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী এবং সুযোগ পেলেই ফিরতে চান। তার ভাষায়, “আমি আশা করি ফিরতে পারব। সবকিছু এখন আইনি জটিলতার মধ্যে আটকে আছে।”
এর আগে পাকিস্তান সিরিজ চলাকালে হঠাৎ করেই সাকিবের দলে ফেরার গুঞ্জন জোরালো হয়ে ওঠে। অনেক সমর্থক আশা করেছিলেন, দলের মিডল অর্ডারকে শক্তিশালী করা এবং বোলিং আক্রমণে ভারসাম্য আনার জন্য তাকে আবারও দলে দেখা যাবে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় অনেকেই মনে করেছিলেন, দলের প্রয়োজনে তিনি দ্রুতই ফিরে আসবেন। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ পায়নি।
সাকিব এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয় এবং তিনি নিজেও পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন। তিনি জানান, বিসিবি এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আন্তরিকতা প্রকাশ করেছে। তবে তার মতে, যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আরও কিছুটা উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তিনি বলেন, “বোর্ড এখন পর্যন্ত আন্তরিকতা দেখিয়েছে। একটু বেশি চেষ্টা করলে হয়তো বিষয়গুলো আরও দ্রুত সমাধান হতে পারে।”
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাকিব মাঠে বহু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলেছেন এবং প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করেছেন। ক্রিকেট মাঠে তার দৃঢ়তা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার জন্য তিনি সুপরিচিত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তার জন্য একেবারেই নতুন বলে স্বীকার করেছেন তিনি। সাকিব বলেন, “এই আইনি বিষয়গুলো আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।”
তবে সব জটিলতা কেটে গেলে দেশে ফেরার ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার ভাষায়, আইনি সমস্যাগুলোর সমাধান হলেই তিনি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, “আইনি বিষয়গুলো মিটে গেলে যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসব। একদিন যদি বিষয়টার সমাধান হয়, ইনশাআল্লাহ পরদিনই দেশে ফিরব।” তার এই বক্তব্যে ভক্তদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন কবে সব জটিলতা কাটিয়ে আবারও দেশের মাটিতে দেখা যাবে বাংলাদেশের এই তারকা অলরাউন্ডারকে।
-69b663b63f704.jpg)