শ্বশুরকে হত্যা করাতে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি! মূল হোতা জামাই

 


যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্তে অগ্রগতি এনে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ মামলার আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 ডিবি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে শহরতলীর ঝুমঝুমপুর এলাকার মাস্টারপাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়। মনিরুল শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক অলক কুমার দে জানান, জবানবন্দিতে মনিরুল স্বীকার করেছেন যে তিনি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এতে মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের জামাই পরশ, যিনি শ্বশুরকে হত্যার জন্য ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন।

 পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অগ্রিম হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল এবং বিকেলে শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুকের হাতে এক লাখ টাকা ও একটি পিস্তল তুলে দেওয়া হয়। হত্যার পর বাকি টাকা শংকরপুরের প্রিন্স নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়ে দেওয়ার কথা ছিল এবং অবশিষ্ট দশ লাখ টাকা পরে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এই হত্যামিশনে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেয় এবং তারা তিনটি মোটরসাইকেলে ভাগ হয়ে অভিযানে নামে।

 প্রথম মোটরসাইকেলে ছিল অমিত ও শুটার মিশুক, দ্বিতীয়টিতে আরও দুজন এবং তৃতীয়টিতে তিনজন অবস্থান করছিল। গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আলমগীর হোসেন শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা তাকে অনুসরণ করে এবং একপর্যায়ে একটি দোকানের সামনে থামলে তারাও অবস্থান নেয়। পরে সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছে পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে মিশুক, এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন আলমগীর। হামলার পর দুই মোটরসাইকেলে চারজন দ্রুত গোলপাতা মসজিদের দিকে পালিয়ে যায় এবং অপর মোটরসাইকেলটি বটতলার দিকে সরে পড়ে।

 ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে নিহতের জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আটক করে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেজপাড়ার ত্রিদিব ওরফে মিশুককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মিশুকের স্বীকারোক্তিতে রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার শাহীন কাজীকেও আটক করা হয় এবং তার জবানবন্দিতে উঠে আসে মনিরুলের নাম, যার সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এখন পর্যন্ত আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 নিহত আলমগীর হোসেন ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর স্থানীয় নেতা এবং তিনি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের বাসিন্দা ছিলেন। হত্যার পর তার স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় জামাই পরশ, সাগরসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে এবং নম্বর প্লেটে লেখা ছিল একটি ব্যতিক্রমধর্মী বাক্য—‘হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’। পুলিশ বলছে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন