ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে মেসি

 


নতুন মৌসুমের শুরুটা হতাশাজনক হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর দুর্দান্ত উদাহরণ তৈরি করেছে ইন্টার মায়ামি, আর সেই প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। নিজেদের মাঠে ফ্লোরিডা ডার্বিতে অরল্যান্ডো সিটি–র বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না মায়ামির জন্য। প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা, যখন ১৮ মিনিটে মার্কো পাসালিচ গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন এবং ছয় মিনিট পর মার্টিন ওহেদা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

 মাঝমাঠে ভুল পাস ও রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব মায়ামিকে চাপে ফেলে দেয়, ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় প্রতিপক্ষের হাতে। প্রথমার্ধে মেসি ও তার সতীর্থরা কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি; বিশেষ করে কানাডিয়ান গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপোর অসাধারণ সেভ মায়ামির হতাশা বাড়িয়ে দেয়। তবে বিরতির পর দৃশ্যপট বদলে যায় নাটকীয়ভাবে। ৪৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মাতেও সিলভেত্তির দূরপাল্লার শটে ব্যবধান কমার পর ম্যাচে ফেরে মায়ামি।

 ঠিক আট মিনিট পর বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে সমতা ফেরান মেসি, যা দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দেয়। ম্যাচের শেষভাগে মায়ামির আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে এবং ৮৫ মিনিটে মেসির সূক্ষ্ম পাস থেকে গোল করে তেলাস্কো সেগোভিয়া দলকে এগিয়ে দেন। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ফ্রি–কিক থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল ও দলের জয় নিশ্চিত করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। 

এই জয়ের ফলে শুধু ম্যাচই ঘুরে দাঁড়ায়নি, ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গেছেন মেসি। তার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা এখন ৮৯৮—আর মাত্র দুই গোল করলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন ৯০০ গোলের অবিশ্বাস্য মাইলফলক, যা তাকে ফুটবল ইতিহাসের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল–এর জার্সিতে তার গোল ১১৫টি, আর ক্লাব ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে বার্সেলোনা–র হয়ে, যেখানে তিনি করেছেন ৬৭২ গোল। ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই–এর হয়ে যোগ করেছেন আরও ৩২ গোল এবং বর্তমান ক্লাব মায়ামির হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯।

 পরিসংখ্যান বলছে, বয়স বাড়লেও মেসির পারফরম্যান্সে কোনো ভাটা পড়েনি; বরং বড় ম্যাচে তিনি এখনো পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন একক দক্ষতায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তিনি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তবে খুব শিগগিরই ৯০০ গোলের ঐতিহাসিক ক্লাবে প্রবেশ করে নতুন কিংবদন্তি অধ্যায় লিখবেন। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন সেই মুহূর্তের অপেক্ষায়—কবে আবার জাদুকরী বাঁ পায়ে বল জালে জড়িয়ে ইতিহাসকে নিজের নামে লিখে নেবেন মেসি।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন