ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন, যা জানা গেল
প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব অর্জনের পর ভিন্ন এক আবহে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে একটি আসন পাওয়ার পর দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটছে এবারের ঈদ আয়োজনেও। দলটির নেতারা এবার কেবল কেন্দ্রীয়ভাবে নয়, বরং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। ফলে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততার একটি নতুন মাত্রা যোগ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (১৮ মার্চ) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দলটির শীর্ষ নেতারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে তুলতে চায় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে আগ্রহী।
মারুফ আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে সুপরিচিত, এবং দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বরাবরের মতোই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই মাদ্রাসা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য এ জামায়াত বরিশালের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামায়াত হিসেবে বিবেচিত, যেখানে হাজার হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে থাকে। এ জামায়াতে ইমামতি করবেন চরমোনাই পীর নিজেই, যা অনুসারীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ রাজধানীর কদমতলীতে অবস্থিত জামেয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। তিনি সেখানে স্থানীয় মুসল্লি, শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে জানা গেছে। তার এই অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বর্তমানে ওমরাহ পালনরত অবস্থায় সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ফলে তিনি মক্কায় পবিত্র হারাম শরিফে ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেবেন। এতে প্রবাসীদের সঙ্গেও দলের একটি সংযোগ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ রাজধানীর ভাটারা এলাকার সাঈদনগর মাদ্রাসায় ঈদের জামায়াতে ইমামতি করবেন। তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই জামায়াতে স্থানীয় মুসল্লিদের ব্যাপক অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ঈদের দিন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কুশলাদি বিনিময়ে অংশ নেবেন।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক খিলগাঁওয়ের আদর্শবাগ এলাকায় অবস্থিত বাইতুল ইবাদাত জামে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। তিনিও ঈদের দিন স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং দলীয় কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদে প্রবেশের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই নতুন ধরণের ঈদ আয়োজন তাদের রাজনৈতিক কৌশলেরই একটি অংশ। এর মাধ্যমে দলটি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করতে চায়। বিশেষ করে নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে সরাসরি ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমর্থন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ঈদুল ফিতর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক উপলক্ষ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে ঈদ উদযাপনের এই পরিকল্পনা তাদের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলটির উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
