চোর সন্দেহে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

 

পটুয়াখালীর মহিপুরে এক বৃদ্ধকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মোতালেব আকন (৭০) একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের মিশ্রীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত সোমবার (১৭ মার্চ) বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হয়ে যান মোতালেব আকন। প্রথমে তিনি চাকামইয়া এলাকায় যান এবং পরে তালতলী উপজেলার একটি আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর থেকেই তার স্বজনরা তাকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বা ছবি দেখে তারা তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বরগুনার আমতলী উপজেলার ৪ নম্বর সারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া এলাকায় রাত ১০টার দিকে মোতালেব আকন চোর সন্দেহে স্থানীয় কিছু মানুষের হাতে আটক হন। ওই সময় ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে এবং নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে মারধর করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন এবং স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে বরিশালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মোতালেব আকন মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনি কোথায় যাচ্ছেন বা কী করছেন তা অনেক সময় বুঝতে পারতেন না। এই সুযোগে কিছু মানুষ তাকে চোর সন্দেহে আটক করে এবং অমানবিকভাবে নির্যাতন চালায়। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, যাচাই-বাছাই না করেই কাউকে চোর সন্দেহে এমন নির্মমভাবে নির্যাতন করা খুবই উদ্বেগজনক। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে নিহতের বড় ছেলে মোয়াজ্জেম আকন বাদী হয়ে তালতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে, গুজব বা সন্দেহের ভিত্তিতে জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। একটি নিরীহ, অসুস্থ মানুষের জীবন এভাবে ঝরে পড়ায় স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন