মুসলিম দেশে ভরদুপুরেই দেখা গেল শাওয়ালের চাঁদ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পবিত্র রমজান মাসের শেষের চাঁদ, অর্থাৎ শাওয়াল মাসের চাঁদ ক্যামেরায় ধারণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়াও পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করায় বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহ ও আলোচনা বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আবুধাবিতে অবস্থিত খতম অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি থেকে বুধবার (১৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে চাঁদের ছবি তোলা হয়। এই অবজারভেটরিটি আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের অধিভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ছবি ধারণের সময় সূর্য থেকে চাঁদের কৌণিক দূরত্ব ছিল প্রায় ৯.২ ডিগ্রি এবং চাঁদের বয়স ছিল মাইনাস ১৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিট। জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী, এই তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চাঁদের অবস্থান, দূরত্ব ও বয়স নির্ণয়ের মাধ্যমে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেন আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ আনাস মোহাম্মদ, ওসামা ঘান্নাম এবং খালফান আল নাইমি। চাঁদের ছবিটি ধারণ করেন বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী মোহাম্মদ আওদা, যিনি এ ধরনের পর্যবেক্ষণে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাদের এই যৌথ প্রচেষ্টার ফলে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে চাঁদের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই ঈদের তারিখ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়, তবুও আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রযুক্তি আগাম ধারণা দিতে সহায়তা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, কেবলমাত্র টেলিস্কোপ বা ক্যামেরার মাধ্যমে চাঁদ দেখা গেলেই তা সব দেশে গ্রহণযোগ্য হবে—এমন নয়। অনেক দেশেই খালি চোখে চাঁদ দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং সেক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণাকেই চূড়ান্ত হিসেবে ধরা হয়। ফলে বিভিন্ন দেশে ঈদের তারিখ এক বা দুই দিন পার্থক্য হতে পারে।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় আগেই ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে করে মুসলিম বিশ্বে ঈদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা আগেভাগেই শুরু করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে, তবুও এ ধরনের নির্ভুল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য ঈদের সময় নির্ধারণে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে সমন্বয়ের একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরে।
