তিন মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর
আনিস আলমগীর আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর তার কারামুক্তির এই ঘটনাকে ঘিরে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও স্বাগত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, আদালতের জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী তা যাচাই-বাছাই করা হয়। সব ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। আনিস আলমগীরের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর দুপুরের দিকে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য কারাগারের সামনে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর পরিবারের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হওয়ায় সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা তার মুক্তিতে স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।
কারা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। আদালতের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা হয় এবং সব কিছু সঠিক পাওয়া গেলে তবেই মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। আনিস আলমগীরের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যাচাই করার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১১ মার্চ ঢাকার একটি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর তার আইনজীবীদের মাধ্যমে সেই জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছানো হলে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কিছু সময় লাগায় শনিবার দুপুরে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
জানা যায়, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরদিন তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের নির্দেশে কয়েক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে তিনি কারাগারেই ছিলেন।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) করা আরেকটি মামলাতেও তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলায়ও আদালতের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরে ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে জামিন লাভ করেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, যেসব মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল সেগুলোতে আদালত জামিন মঞ্জুর করায় তার কারামুক্তির পথ তৈরি হয়। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারামুক্তির পর তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াইয়ের পর তিনি জামিন পেয়েছেন এবং অবশেষে কারাগার থেকে বের হতে পেরেছেন। তারা আশা করছেন, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মামলায় আদালত জামিন মঞ্জুর করলে সেই আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। আনিস আলমগীরের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম অনুসরণ করেই তার মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক আনিস আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমে কাজ করে আসছেন এবং বিভিন্ন সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেছেন। তার গ্রেপ্তার ও কারাবাসের বিষয়টি সাংবাদিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর অবশেষে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ায় তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা গেছে।
