ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ৩০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান


 ইরান একযোগে ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েল-এর দিকে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলা ছিল সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে অন্যতম বড় ও শক্তিশালী আঘাত। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় লক্ষ্য করে এক থেকে দুই টন ওজনের মোট ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।


ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর এয়ারোস্পেস বাহিনীর কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ এয়ারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে।


মুসাভির দাবি অনুযায়ী, ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রতিটিই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলার ফলে ‘দখলদার ইসরায়েলের’ গুরুত্বপূর্ণ কিছু এয়ারোস্পেস অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এসব ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


আইআরজিসির এই কমান্ডার আরও বলেন, ইরানের ছোড়া ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পরিচালিত সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার মতে, এই হামলা শুধু সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সক্ষমতারও একটি বার্তা।


মুসাভি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এখন ইসরায়েলের আকাশসীমার আরও বড় অংশ ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর আওতায় চলে এসেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে এ ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এতে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কতটা বাড়ে, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন