গণপরিবহনে পর্যাপ্ত তেল মিলবে কবে থেকে, যা জানা গেল

 


শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, দূরপাল্লার বাসসহ গণপরিবহনে শনিবার (১৪ মার্চ) রাত থেকেই পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। এর ফলে গণপরিবহনে তেলের যে সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং চালু ছিল, তা তুলে নেওয়া হচ্ছে। শনিবার রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গণপরিবহনে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং পরিবহন খাতে কোনো ধরনের সংকট তৈরি না করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।


মন্ত্রী বলেন, দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনে তেলের রেশনিং শনিবার রাত থেকেই থাকবে না। রাতের পর থেকে বাসগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি তেল পাবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রী পরিবহনে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়। বিশেষ করে ঈদ সামনে রেখে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান।


উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হওয়ায় সরকার সাময়িকভাবে তেল সরবরাহে কিছু সীমা নির্ধারণ করে।


এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গত ৬ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল সরবরাহে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারত। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লিটার জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।


এ ছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি এবং মাইক্রোবাসের জন্য দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার তেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে পিকআপ বা লোকাল বাস প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল নিতে পারত। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান কিংবা কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।


তবে নতুন ঘোষণার মাধ্যমে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন এখন প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নিতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরিবহন খাতের মালিক ও চালকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রী পরিবহনে স্বস্তি ফিরবে এবং পরিবহন চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে।


তবে ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রে এখনো নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সরকারের আশা, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ধীরে ধীরে অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ শিথিল করা সম্ভব হবে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন