ঢাবির হলে শিক্ষার্থীর গোসল করার ভিডিও ধারণ:অতঃপর যা ঘটলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের এক শিক্ষার্থীকে গোসল করার সময় ভিডিও ধারণের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। আটককৃত শিক্ষার্থীর নাম মোসাদিকুর, তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল (বিউপির)-এর মাস্টার্স প্রোগ্রামের ছাত্র। মোসাদিকুরের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ইছাখালী গ্রামে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর সাড়ে তিনটায় হলের পদ্মা ব্লক থেকে তাকে আটক করা হয়।
হলের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, কিছুদিন আগে এক শিক্ষার্থী গোসলের সময় খেয়াল করেছিলেন কেউ তার ভিডিও করছে। তবে সেই সময় ভিডিওকারীকে ধরা সম্ভব হয়নি। আজ শনিবার অন্য এক শিক্ষার্থী গোসল করার সময় দেখে মোসাদিকুর ওই ভিডিও ধারণ করতে। শিক্ষার্থীরা হাতেনাতে তাকে ধরে ফেলে। পরে তার ফোনে একাধিক আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া যায়।
বিজয় একাত্তর হল সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট হাসান আল বান্না জানান, আটককৃত মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের গোসলের একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে। মোসাদিকুর নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে এবং টিএসসিতে তার একটি গ্রুপ রয়েছে। এছাড়া তার ফোনে টিএসসিভিত্তিক আড্ডা এবং বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি দেখার পর হল সংসদ তা শাহবাগ থানায় জানিয়েছে। পরে থানা থেকে পুলিশ এসে মোসাদিকুরকে আটক করে নিয়ে যায়।
বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য উদ্বেগজনক। তারা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করবে এবং এমন ধরনের ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
হলে থাকাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ব্যক্তিগত স্থান যেমন গোসলখানা বা রুমে আছেন। সেই জায়গায় কোনো ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপের খবর পাওয়া গেলে তা শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
প্রফেশনাল মাস্টার্সের ছাত্র মোসাদিকুরের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং থানার সহযোগিতায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার মোবাইলে পাওয়া ভিডিওগুলো তদন্তের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত করা হয়েছে।
বিজয় একাত্তর হলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি শুধু একটি ব্যক্তির সমস্যা নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর শাস্তি নিশ্চিত করবে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তির সুবিধা থাকলেও এটি যথাযথভাবে ব্যবহার করা উচিত। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করার মতো কাজ কখনোই সহ্য করা হবে না।
