শনিবার থেকে শুরু ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন, কে পাবেন কত টাকা?
![]() |
এই কর্মসূচির আওতায় শুধু মসজিদ নয়, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়, একই সঙ্গে ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্যও সম্মানী প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবাদানকারী ব্যক্তিদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাবিউল্লাহ জানিয়েছেন, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন পাবেন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা করে। একইভাবে প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত পাবেন ৩ হাজার টাকা করে।
বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিটি বৌদ্ধবিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় গির্জার জন্যও একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকবে। প্রতিটি গির্জার জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পালক বা যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী পালক বা সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা করে।
সরকার জানিয়েছে, নিয়মিত সম্মানীর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবগুলোতেও অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মসজিদে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য বছরে দুইবার বিশেষ বোনাস দেওয়া হবে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে। অন্যদিকে অন্যান্য ধর্মের বড় উৎসবগুলোতেও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বোনাস পাবেন। যেমন দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা বা বড়দিন উপলক্ষে ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সরকার জানিয়েছে, যেসব মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সরকারি বা দেশি-বিদেশি কোনো সংস্থার অনুদান বা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ এই সম্মানী মূলত তাদের জন্যই, যারা বর্তমানে কোনো ধরনের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাচ্ছেন না।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে এই কর্মসূচি শুরু করা হলেও ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়কে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী চার অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার বা প্যাগোডা এবং গির্জার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই সম্মানী কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাবিউল্লাহ আরও জানান, চলতি অর্থবছরে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে। তবে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
সরকার চার ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যয় বাড়বে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকায়। তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আর ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পুরো কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবাদানকারী ব্যক্তিদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং সমাজে ধর্মীয় সেবার পরিবেশ আরও সুসংগঠিত হবে।
