বাংলাদেশকে বড় সুখবর দিলেন হামজা চৌধুরী

 

ইনজুরি কাটিয়ে আবার মাঠে ফিরেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ফুটবলার হামজা চৌধুরী। ফলে চলতি মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল-এর হয়ে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা প্রীতি ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটি-র এই মিডফিল্ডার সাম্প্রতিক সময়ে হাঁটুর চোটে ভুগছিলেন। তবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে তিনি ধীরে ধীরে আবার প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরতে শুরু করেছেন। এতে করে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে, কারণ সামনে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ রয়েছে।


গত ৩১ জানুয়ারি চার্লটন অ্যাথলেটিক-এর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের এক ম্যাচে হাঁটুতে চোট পান হামজা চৌধুরী। ম্যাচ চলাকালে চোট পেয়ে তিনি ক্র্যাচে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন, যা নিয়ে তখন বেশ উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় ধারণা করা হচ্ছিল, তার সুস্থ হয়ে উঠতে বেশ সময় লাগতে পারে এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ৩১ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সিঙ্গাপুর জাতীয় ফুটবল দল-এর বিপক্ষে তার খেলা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দেয়।


চোট পাওয়ার পর ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হয় হামজাকে। প্রায় ছয়টি ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। তবে দীর্ঘ পুনর্বাসন ও চিকিৎসার পর মার্চের শুরুতে তিনি ধীরে ধীরে দলে ফিরতে শুরু করেন। ৭ মার্চ ইপসউইচ টাউন-এর বিপক্ষে এবং ১১ মার্চ ব্রিস্টল সিটি-র বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মাঠে নামেন ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। যদিও পুরো ম্যাচ খেলেননি, তবুও মাঠে ফেরাটা তার ফিটনেস ফিরে পাওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে করে ২৬ মার্চ ভিয়েতনাম-এর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং পরে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আশাবাদী। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল-এর সভাপতিত্বে জাতীয় দল কমিটির এক বৈঠক শেষে বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবুল জানান, হামজা চৌধুরী এখন পুরোপুরি সুস্থ। তিনি বলেন, ‘হামজা এখন ফিট এবং ২২ মার্চ ভিয়েতনামে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেবে।’ এই ঘোষণায় জাতীয় দলের পরিকল্পনায় নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এদিকে জাতীয় দলের প্রস্তুতি শুরু হতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ার ক্যাবরেরা শিগগিরই ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক দল ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে। আগামী ১৬ মার্চ ঢাকায় জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই ক্যাম্পে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে অনুশীলন চলবে। পরে ২১ মার্চ ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে এবং ওই দিনই দলটি ভিয়েতনামের উদ্দেশে রওনা দেবে।


বিদেশে থাকা কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলারও জাতীয় দলে যোগ দিতে দেশে ফিরবেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা জায়ান আহমেদ ১৪ মার্চ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কানাডা থেকে শমিত শোম ১৫ মার্চ দেশে ফিরবেন। এছাড়া ইতালিতে থাকা ফাহামেদুল ইসলাম এবং ফিনল্যান্ডে অবস্থান করা তারিক রাইহান কাজী ১৬ মার্চ বাংলাদেশে পৌঁছাবেন বলে জানানো হয়েছে।


সব মিলিয়ে সামনে থাকা আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোকে ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। বিশেষ করে হামজা চৌধুরীর সুস্থ হয়ে দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা দলটির মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করছেন কোচিং স্টাফ ও সমর্থকরা। তার অভিজ্ঞতা ও ইউরোপীয় লিগে খেলার অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন