মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়! ইরানের নতুন ধাপের হামলা শুরু, কাঁপছে ইসরায়েল


 ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস–৪’-এর ৪৪তম ধাপ শুরু করেছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। 

শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই তথ্য নিশ্চিত করে। তাদের দাবি, এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে প্রতিরোধ আন্দোলনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার স্মরণে। যাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক জেনারেল কাসেম সোলাইমানি, লেবাননের শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ-এর সাবেক প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক সংগঠন হামাস-এর শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়াসহ আরও কয়েকজন নেতা। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযান প্রতিরোধ শক্তির প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং তাদের স্মরণে পরিচালিত হয়েছে।


আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসের ২৩তম রাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি শহর হলো হাইফা ও হাদেরা।

 আইআরজিসি জানিয়েছে, এসব শহরের সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার ফলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


এছাড়া আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের অংশ হিসেবে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইন-এর রাজধানী মানামা-য় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই নৌবহরটি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


তবে আইআরজিসির এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্র-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। একই সঙ্গে হামলার ফলে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য প্রকাশ পায়নি। 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিস্থিতি কীভাবে অগ্রসর হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়, তা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন