ইরানের টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল: তেল আবিবে বিস্ফোরণ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। শুক্রবার (০৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের তেল আবিব ও ইলাত অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। যদিও এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এদিকে এই সংঘাত ঘিরে কূটনৈতিক পর্যায়েও নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন, যা বুধবার (১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা হয়। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই যুদ্ধ আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। তিনি সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে জানতে চান, চলমান এই সংঘাতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের কী স্বার্থ অর্জিত হচ্ছে।
চিঠিতে পেজেশকিয়ান দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো আগ্রাসন, বিস্তারবাদ কিংবা উপনিবেশবাদের পথ অনুসরণ করেনি এবং কোনো যুদ্ধের সূচনাও করেনি। তার মতে, ইরানকে একটি বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাবশালী শক্তিগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ফল।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে রেখেছে, যেখান থেকে সাম্প্রতিক সময়ে হামলা চালানো হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডই আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অবস্থান এই সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে, না হলে এই সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।
