বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন: দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে এলাকায় তোলপাড়
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের ব্যাসপুর দক্ষিণ পাড়া গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেছেন দুই সন্তানের জননী এক নারী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা পলি খানম (২৮)-এর সঙ্গে একই এলাকার হাবিব শেখের ছেলে আসরাফ শেখের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসরাফ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ভবিষ্যতে সংসার করার আশ্বাস দেন। কিন্তু সম্প্রতি বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি নানা অজুহাতে টালবাহানা শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ ও অসহায় হয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর থেকে পলি খানম প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন এবং বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন।
পলি খানমের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আসরাফের কথায় বিশ্বাস রেখে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, “বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। এখন আমাকে অস্বীকার করছে। আমি তার সঙ্গে বৈধভাবে সংসার করতে চাই। সে যদি আমাকে বিয়ে না করে, তাহলে আমি চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।” তার অভিযোগ, এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়, সামাজিকভাবেও তাকে হেয় করার একটি ঘটনা। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, ঘটনার পর থেকেই আসরাফ শেখ আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তার পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না। ফলে গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হতে পারে, তবে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া উচিত। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অনেকে পলি খানমের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমরা আপনার মাধ্যমে জেনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এদিকে পলি খানম তার দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিয়ের আশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান ও অনশন—এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধান হয়, নাকি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়।
