বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ: শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

 


শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

জানা গেছে, নড়িয়ার রাজনগর জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রকে ঘিরে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির পক্ষে কাজ করা হাফিজ ভূইয়ার ছেলে সাব্বিরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে জামায়াত-সমর্থক ছোরপান কাজীর ছেলে সোহেল কাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনার জেরে সোমবার ভোররাতে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অনেকেই ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারেননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এতে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের একজন সারিকা বেগম বলেন, “আমার স্বামী-সন্তান বিদেশে থাকে। আমরা বিএনপির পক্ষে কাজ করায় আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এর বিচার চাই।”

অন্যদিকে চন্দ্রবান বেগম বলেন, “আমি নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট ছিলাম। এ কারণে হঠাৎ করে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য হাসিনা আক্তার। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমার স্বামী এলাকায় ছিলেন না। উল্টো তারাই আগে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।”

এদিকে সোহেল কাজীর পরিবারের সদস্য শারমিন বেগম দাবি করেন, হাফিজ ভূইয়ার লোকজনই আগে থেকে এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টি করছিল। তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া জানান, নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন