ইসরায়েলে ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; ভবন ধসে আহত অন্তত ২০



 ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা শহরে একটি ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী-পুরুষ ছাড়াও একটি ১০ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। হামলার পরপরই জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয় এবং এখনো তা চলমান রয়েছে।


ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম Kan জানিয়েছে, দেশটির জরুরি চিকিৎসা সেবা বিভাগের বরাতে এই হামলায় আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল, ফায়ার সার্ভিস এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া সম্ভাব্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে।


ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার মুহূর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। সেখানে দেখা যায়, আকাশ থেকে দ্রুতগতিতে একটি বিশাল অগ্নিগোলা নিচের দিকে নেমে আসছে এবং মাটিতে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তেই ধোঁয়া ও ধুলায় চারপাশ ঢেকে যায়। এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে যান।


অন্যদিকে, উত্তর ইসরায়েলের মা’লোত-তারশিহা এলাকাতেও পৃথক রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। Channel 12 জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এতে করে বোঝা যাচ্ছে, একাধিক ফ্রন্টে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


এ বিষয়ে The Times of Israel জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের এই হামলার জন্য লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা একঝাঁক রকেট ছুড়ে এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইসরায়েলের উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিকেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি চাপে পড়েছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইরান, হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত যদি আরও তীব্র হয়, তাহলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।


সব মিলিয়ে, ডিমোনা ও মা’লোত-তারশিহা এলাকায় সংঘটিত এই হামলার ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে। উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানা সম্ভব নয়, তবে ইতোমধ্যেই যে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে, তা পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে যথেষ্ট। আগামী দিনে এই উত্তেজনা কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন