বিএনপির দু’পক্ষের রণক্ষেত্র! দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫০
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় ভিজিএফের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন-এর চরগোলকনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মির্জাপুর ইউনিয়নের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কার্ড ইস্যু করা হয়। সেই কার্ড পাওয়াকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সায়েম আলীর কাছে ভিজিএফ কার্ড চান যুবদল নেতা শামীম হোসেন লস্কর। এ সময় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং বিষয়টি দ্রুতই উত্তেজনায় রূপ নেয়।
পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সালিশ বৈঠকেও বিরোধ মীমাংসা না হয়ে বরং উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে সায়েম আলী ও শামীম হোসেনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, রাত প্রায় ৮টা থেকে শুরু হয়ে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই গুরুতর জখম হন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পৌঁছান। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করেন এবং সংঘর্ষে জড়িতদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে অনেককে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত কয়েকজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, এলাকায় যাতে আবার কোনো সংঘর্ষ না ঘটে সে জন্য সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
