যুদ্ধ চায় না ইরান, তবে অধিকার রক্ষায় অটল: নতুন নেতা মোজতবা খামেনি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না ইরান—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নিজেদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় কোনোভাবেই ছাড় দেবে না তেহরান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা এক লিখিত বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
যুদ্ধ নয়, অধিকার রক্ষার বার্তা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর দেওয়া এই বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন,
“আমরা যুদ্ধ চাইনি এবং এখনো চাই না। তবে কোনো অবস্থাতেই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে দাঁড়াব না।”
তিনি আরও জানান, ইরান তাদের ‘প্রতিরোধ জোট’-কে একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
লেবানন ইস্যুর ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য লেবানন-এর পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করে, যেখানে ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত চলছে।
যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সম্ভাবনা
চলতি সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান
যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও জনগণের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোজতবা খামেনি।
তিনি বলেন, “জনগণের রাস্তায় নামা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। জনসমাবেশে আপনাদের কণ্ঠস্বর আলোচনার ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।”
শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুঞ্জন
উল্লেখ্য, বাবার ওপর হামলার সময় মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।
তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে তার লিখিত বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মোজতবা খামেনি হয়তো মারা গেছেন।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি চিকিৎসাধীন আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তার কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও সেগুলোর সময় উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির এই বার্তা একদিকে যুদ্ধ এড়িয়ে চলার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে ইরানের কৌশলগত অবস্থানও স্পষ্ট করে—যেখানে কূটনীতি ও প্রতিরোধ একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।
