বাহরাইনে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের বিধ্বংসী হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা
মানামা ও তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক অভাবনীয় মোড় নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত। মঙ্গলবার (৩ মার্চ, ২০২৬) বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বিমান ঘাঁটি ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং এর মাধ্যমে তারা গত সপ্তাহে তাদের শীর্ষ নেতার হত্যাকাণ্ডের কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
আইআরজিসি-র ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, গভীর রাতে কয়েক দফায় রকেট ও আত্মঘাতী ড্রোন বাহরাইনের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এই হামলায় বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটিকে। আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই ঘাঁটির একটি প্রধান কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ বিল্ডিং সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার পর ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে এবং বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা নিহতের সংখ্যা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রেক্ষাপট: খামেনির শাহাদাত ও প্রতিশোধের আগুন
এই হামলার মূলে রয়েছে গত শনিবারের (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক ভয়াবহ ঘটনা। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে এক বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়, যাকে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো "রেজিম চেঞ্জ" বা সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা হিসেবে দেখছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইরানের ক্ষমতায় থাকা এই প্রভাবশালী নেতার প্রয়াণে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পরপরই তেহরান জানিয়েছিল, তারা এর জন্য দায়ী দেশগুলোর বিরুদ্ধে "ভয়ানক প্রতিশোধ" নেবে।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধের আশঙ্কা
বাহরাইনের এই হামলাটি মূলত ইরানের পাল্টাপাল্টি অভিযানের (অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪) অংশ। এর আগে ইরান সৌদি আরবে মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই পাল্টা জবাবকে "বড় ধরনের উস্কানি" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আঞ্চলিক সতর্কতা: সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতও এই হামলার পর উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। বাহরাইন সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে সমন্বয় করতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাহরাইনের মতো একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশে সরাসরি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করার অর্থ হলো ইরান এখন সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পিছপা হবে না। বিশ্ববাজারে তেলের দাম হুহু করে বাড়তে শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহল একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে।
