সিরিজ জয়ের পর যে বড় সুখবর পেল বাংলাদেশ

 


পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের আনন্দ কাটতে না কাটতেই আরেকটি সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়েছে টাইগাররা। সর্বশেষ হালনাগাদ র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে দশ নম্বর থেকে নবম স্থানে উঠে এসেছে। নেতৃত্বে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজ–এর অধীনে এই সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাস যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম–এ রোববার (১৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ম্যাচটি কার্যত অঘোষিত ফাইনালে পরিণত হয়েছিল, কারণ প্রথম দুই ম্যাচ শেষে সিরিজে সমতা ছিল। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। এই জয়ের ফলে শুধু সিরিজই নয়, র‍্যাঙ্কিং পয়েন্টেও বড় অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের।

সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৬। পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯–এ। এর ফলে র‍্যাঙ্কিংয়ের নবম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ৭৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে নেমে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। যদিও এই সিরিজে হারের পরও ১০২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান ধরে রেখেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল।

র‍্যাঙ্কিংয়ে এই উন্নতি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের লড়াইয়ে দলকে কিছুটা এগিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা International Cricket Council–এর নিয়ম অনুযায়ী, আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে পারলে দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। তবে আয়োজক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ইতোমধ্যেই স্বাগতিক হিসেবে নিশ্চিত হওয়ায় বাকি ছয়টি সরাসরি টিকিটের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পরও রেটিং পয়েন্টের জটিল সমীকরণের কারণে দশ নম্বরেই আটকে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে এগিয়ে গেল টাইগাররা। এই সাফল্য দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সিরিজগুলোর জন্যও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দাপুটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ১২৮ রানে হেরে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনে পাকিস্তান। ফলে শেষ ম্যাচটি সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে পরিণত হয়। সেখানে ব্যাটিং-বোলিংয়ের সমন্বিত নৈপুণ্যে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা। পাকিস্তান দলে নেতৃত্বে ছিলেন তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের সমীকরণ সামনে রেখে বাংলাদেশের জন্য এখন প্রতিটি সিরিজই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে জায়গা করে নেওয়া এবং সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন